১৬ মাসে ৫৮০ শিশু ধর্ষিত, ৪৮৩ জনকে হত্যা: এইচআরএসএস
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ মাসে দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার এক ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ৪৮৩ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ১৬ মাসে দেশে প্রায় দুই হাজার শিশু নানা মাত্রায় শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এইচআরএসএস-এর সংগৃহীত তথ্য ও ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশে মোট ১,৪০৭ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ৩১৮ জন এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছে ৫৮০ জন শিশু। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই সময়ের মধ্যে ৪৮৩ জন শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাক্ট ফাইল: সাম্প্রতিক কিছু মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিবেদনে শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরতে সাম্প্রতিক কয়েকটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে: ১৯ মে, ২০২৬ (ঢাকা): রাজধানীর পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
১৬ মে, ২০২৬ (মুন্সিগঞ্জ): সিরাজদিখান উপজেলায় ১০ বছর বয়সী আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
১৪ মে, ২০২৬ (ঠাকুরগাঁও): রাণীশংকৈল উপজেলায় ৪ বছরের শিশু লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করে একটি ভুট্টাক্ষেতে মরদেহ ফেলে রাখা হয়। ৬ মে, ২০২৬ (সিলেট): সদর উপজেলায় চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এইচআরএসএস-এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ: সংগঠনটির মতে, শিশু সুরক্ষা এবং সহিংসতা প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের একটি সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থা যথেষ্ট কার্যকর নয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আইনের দুর্বল প্রয়োগ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এইচআরএসএস অবিলম্বে এই সকল ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান, ক্ষতিপূরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
TruthOrRumor-এর দৃষ্টিকোণ: শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে শুধু আইনের কঠোর প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও মূল্যবোধের জাগরণ। সরকার, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব।