পল্লবীতে শিশু রামিসাকে গলা কেটে হত্যা: 'আমি বিচার চাই না, আপনাদের বিচার করার রেকর্ড নেই' ক্ষোভ বাবার
আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের এই ধরনের বিচার করার কোনো রেকর্ড বা উদাহরণ নেই। আপনারা পারবেন না, আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। এটা বড়জোর ১৫ দিন (আলোচনা) চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে, এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে প্রতিবেশী দম্পতির ফ্ল্যাটে রামিসা আক্তার নামের এক শিশুকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর গভীর আক্ষেপ, তীব্র ক্ষোভ ও চরম অনাস্থা প্রকাশ করেছেন নিহত শিশুর বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন:
"আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের এই ধরনের বিচার করার কোনো রেকর্ড বা উদাহরণ নেই। আপনারা পারবেন না, আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। এটা বড়জোর ১৫ দিন (আলোচনা) চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে, এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।"
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিবারটি পল্লবীতে বসবাস করে আসছে। আদরের সন্তানকে হারিয়ে বাবার এমন আকুল ও হতাশাজনক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্তব্ধতা তৈরি করেছে।
যেভাবে জানা গেল ঘটনা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পল্লবীর একটি বহুতল ভবনে প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নার ফ্ল্যাটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া এসেছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা যখন খুঁজছিলেন, তখন ওই প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। তিনি যখন দরজায় নক করছিলেন, ঠিক তখনই ভেতরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। মূল আসামি সোহেল রানা যেন পেছনের পথ দিয়ে পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতে তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ মেইন দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য ও নৃশংসতার বিবরণ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও অপারেশনস বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি প্রতিবেশীর বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল। নির্যাতন ও রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে প্রথমে শ্বাসরোধ এবং পরবর্তীতে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গলা ও হাত কেটে ফেলা হয়।
এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে ফুটফুটে একটি শিশুর এমন নৃশংস পরিণতি এবং তার বাবার বিচার ব্যবস্থার প্রতি এমন চরম অনাস্থার বক্তব্য পুরো দেশবাসীকে নাড়া দিয়েছে।